প্রচলিত ভুল বনাম রাসূলুল্লাহ (সা) এর সালাত আদায়ের পদ্ধতি


বইঃ প্রচলিত ভুল বনাম রাসূলুল্লাহ (সা) এর সালাত আদায়ের পদ্ধতি 
লেখকঃ শায়খ মুরাদ বিন আমজাদ (হাফি)
প্রকাশকঃ তাওহীদ পাবলিকেশন্স



যা যা থাকছেঃ

প্রচলিত সালাতে ১০০ ভুল ও দলিল ভিত্তিক সমাধান,

১ম অংশ ১-৫০ পর্যন্ত দেওা হলোঃ-


১। প্রচলিত ভুলঃ প্রচলিত উযূর মধ্যে বাংলায় বা আরবীতে নাওয়াইতুআন আতআজ্জা...... নিয়্যাত হিসাবে পড়া হয়। কিন্তু সহীহ হাদীস তো দূরের কথা কোন যঈফ হাদীসেরও মুখে নিয়্যাত উচ্চারণের কথা বলা নেই।
* রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) এর পদ্ধতিঃ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ‘‘আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে, যা সে নিয়্যাত করবে।’’ (সহীহুল বুখারী-১/১, সহীহ্ মুসলিম’ ৪৬) অতএব নিয়্যাত করতে হবে পড়তে হবে না। আনোয়ার শাহ্ কাশ্মিরী (রঃ) বুখারীর শরা হতে লিখেছেন; নিয়্যাত হলো- অন্তরের কার্যসমূহ। (ফয়যুল বারী-১/৮ পৃঃ)
২। প্রচলিত ভুলঃ উযূর প্রথমে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, অথবা আলহামদুলিল্লাহ অথবা আশহাদু আল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করলে বিসমিল্লাহ পাঠের সুন্নাত আদায় হয়ে যায়। (ফাতোয়ায়ে আলমগিরী, তাজ কোঃ ১/৩০ পৃঃ) তাছাড়া প্রত্যেক অঙ্গ ধোয়ার জন্য পৃথক পৃথক দু’আর প্রচলন আছে। (বেহেশতী জেওর-১/৯৮,৯৯,১০, ফতোয়ায়ে আলমগীরী তাজ কোঃ ১/৩৪ পৃঃ)
* রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘‘সে ব্যক্তির সলাত হয় না, যার উযূ নেই। আর যে ব্যক্তি উযূর সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলে না, তার উযূ হয় না। (সহীহ মুসলিম ২/৩২, তিরমিযী-১/২৯ পৃঃ ইফাবা, ইবনে মাজাহ-১/১৭৯ পৃঃ, আবু দাউদ-১/৫১ পৃঃ, মিশকাত-২/৩৭০) উল্লেখ্য যে, শুরুতে বিসমিল্লাহ ছাড়া মধ্যখানে প্রত্যেক অঙ্গ ধোয়ার কোন আলাদা দু’আ সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। সুতরাং কেউ তা করলে বিদ’আত হবে।
৩। প্রচলিত ভুলঃ মাথার এক-চতুর্থাংশ মাসাহ করা ফরয। মুথতাছার কুদুরী মাদ্রাসার ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর পাঠ্য ৮ পৃঃ ফতোয়ায়ে আলমগিরী ২৮ পৃঃ বেহেশতী জেওর ১/৪১ পৃঃ ১৫ নং মাসআলায় মাথার অগ্রভাগ পরিমাণ মাসাহ করা ফরয। (হিদায়া আলমগীরী-৪৫ পৃঃ ১/ ইফবা মাথার সম্মুখভাগ মাসাহ না করে যদি কোন ব্যক্তি মাথার পেছনের অংশ অথবা ডান বা বাঁদিকে মাথার মধ্যাংশ মাসাহ করে তবে মাসাহ দুরস্ত হবে। (তাতারখানিয়া’ ফাতোয়ায়ে আলমগীরী-১/৪৫)
* রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) উযূতে সম্পূর্ণ মাথা মাসাহ করতেন। যেহেতু আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেনঃ ‘‘ওয়ামছাহু বিরুউসিকুম’’, অর্থাৎ তোমাদের মাথা সমূহ মাসাহ কর। (আল-মায়েদাঃ ৬) তার পর দু’হাত দিয়ে মাথা মাসাহ করলেন। অর্থাৎ হাত দু’টি সামনে এবং পেছনে নিলেন। মাথার সম্মুখভাগ থেকে শুরু করে উভয় হাত পেছনের চুলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত নিলেন। তারপর আবার যেখান থেকে শুরু করেছিলেন, সেখানেই ফিরিয়ে আনলেন। (সহীহুল বুখারী ১/১৮৫, মুসলিম ১৮৬, ১৯১, ১৯২, ১৯৭, ১৯৯, ২/৭, ২৩৫, আহমাদ ১৪৪৫)
৪। প্রচলিত ভুলঃ উভয় হাতের পৃষ্ঠ দ্বারা ঘাড় মাসাহ করবে। (ফাতওয়ায়ে আলমগীরী ৫১ পৃঃ)
* রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ ঘাড় মাসাহ করা বিদ’আত। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) হতে ঘাড় মাসাহ (বিশুদ্ধ সূত্রে) প্রমাণিত নয়। সহীহ্ মুসলিমের ভাষ্যকার ইমাম নাবাবী (রঃ) একে বিদ‘আত বলেছেন। (সহীহ বুখারী তাওঃ প্র. টীকা ১১১ পৃঃ) উল্লেখ্য যে, উযূর শেষে কালিমায়ে শাহাদাত পড়া সুন্নাত। (মুসলিম-২/৩৯)।
৫। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের দেশে প্রচলিত বিভিন্ন কথিত ধর্মীয় পুস্তকে উযূর পূর্বে পাঠ করার জন্য নিম্নের দু’আটি শেখানো হয়েছে- উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহেল আলিউল আযীম, ওয়ালহামদুলিল্লাহ আলা দ্বীনেল ইসলাম, আল ইসলামু হাক্কুন ওয়াল কুফরি বাতেলুন, ওয়াল ইসলামু নুরুন ওয়াল কুফরু জুলমাতুন। (মওঃ গোলাম রহমান, মকছুদুল মোমেনীন-১২৭ পৃঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ দুই নং আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীস দ্রষ্টব্য। এছাড়া উল্লিখিত সব বানাওয়াট বা জাল কথা এর কোন সহীহ্ ভিত্তি নেই। তাছাড়া ‘বেহেস্তি জেওর’ ও উল্লিখিত ‘মোকছুদুল মোমেনিন’ সহ বিভিন্ন প্রচলিত পুস্তকে উযূর প্রত্যেক অঙ্গ ধৌত করার সময় পাঠ করার জন্য বিশেষ দু‘আর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন, হাত ধোয়ার, কুল্লি করার, নাক পরিষ্কার করার ইত্যাদি। অথচ এই দু‘আর কোন সহীহ্ ভিত্তি নেই। যে হাদীসের উপর ভিত্তি করে বলা হয় তার সবই বানোয়াট বা জাল। ইমাম দারাকুতনী, ইমাম নববী, ইমাম সূযুতী, মোল্লা আলী, ক্বারী-আল-হানাফী ও অন্যান্য মুহাদ্দীসগণ সকলেই হাদীসটিকে জাল ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। (নাববী, আল-আযকার ৫৭ পৃঃ,ইবনুল কাইয়েম, আল-মানারুল মুনিফ ১২০ পৃঃ, আল ক্বারী, আল-আসরারুল মারফূআ ৩৪৫, গৃহীত, হাদীসের নামে জালিয়াত ৩৬৪ পৃঃ)
৬। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের দেশে কোন কোন গ্রন্থে লেখা আছে। উযূর পরে সূরা ক্বদর পাঠ করিলে সিদ্দীকের দরজা হাসিল হইবে। (মওঃ গোলাম রহমান, মোকছুদুল মোমেনীন ১৩২-১৩৩ পৃঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ ওমর ফারূক (রাঃ) হতে বর্ণিত, রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি পূর্ণভাবে উযূ করবে ও কালেমায়ে ‘শাহাদাতইন’ পাঠ করবে, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হবে। যেটা দিয়ে ইচ্ছা সে প্রবেশ করবে। (সহীহ্ মুসলিম, মিশকাত হা/২৮৯) এ দু‘আর সাথে তিরমিযী শরীকের বর্ণনায় আরো একটি দু‘আ পাওয়া যায় তা’হলঃ-
উচ্চারণঃ- ‘‘আল্লা-হুম্মাজ আলনী মিনাত্ তাউয়াবীনা ওয়াজ্ ‘আলনী মিনাল মুতাত্বাহিরীন।’’ অর্থ- হে আল্লাহ আপনি আমাকে অধিক তাওবাকারী এবং পাক পবিত্র লোকদের অন্তর্ভূক্ত করেদিন। (সহীহ্ তিরমিযী-১/৪৯ পৃঃ)
৭। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের সমাজে অনেক মুসল্লিকে দেখা যায় উযূর শেষে উল্লিখিত দু‘আ পাঠ করার সময় আসমানে দিকে তাকায়। অথচ উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীসটি ‘মুনকার’ বা যঈফ। (আলবানী, ইরাওয়াউল গালীল-১/১৩৪ পৃঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ উপরে বর্ণিত শাহাদাতাইন ও তিরমিযী বর্ণিত দু‘আটি পাঠ করা। আসমানের দিকে না তাকিয়ে। (সহীহ্ মুসলিম, মিশকাত হা/ ২৮৯, সহীহ্ তিরমিযী-১/৪৯ পৃঃ, হা/৫৫)
৮। প্রচলিত ভুলঃ ‘‘তায়াম্মুমে দুই হাত মাটিতে মারিবে-প্রথমবার হাত দ্বারা মুখমন্ডল মুছিয়া নিবে আর দ্বিতীয়বার হাত দ্বারা কনুই সহ দুই হাত মাসাহ করিবে।’’ (কুদুরী-৪২ পৃঃ)
* রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ আম্মার ইবন ইয়াসার (রাঃ) গোসলের প্রয়োজনে পানি না থাকায় মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে সলাত আদায় করলে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ‘‘তোমার জন্য তো এটুকুই যথেষ্ট ছিল’’-এ বলে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) দু’হাত মাটিতে মারলেন এবং দু’হাতে ফুঁ দিয়ে তাঁর চেহারা ও উভয় হাত মাসাহ্ করলেন (সহীহুল বুখারী-১/৩৩৮)। এই হাদীস দ্বারা একবার পবিত্র মাটিতে হাত মারার কথা প্রমাণিত হয়। অথচ মাযহাবী বিদ্বানগণ তায়াম্মুমের জন্য দু’বার মাটিতে হাত মারার কথা উল্লেখ করে থাকেন। ইমাম বাইহাকী এ রাবীকে দুর্বল বলেছেন। ইমান নাসঈ ও দারা কুতনী তাকে মাতরুকুল হাদীস বলেছেন। তাছাড়া শরহে বিকায়ার ১ম খন্ডে দু’হাতের কনুই পর্যন্ত মাসাহ্ করার যে পদ্ধতি বর্ণিত আছে তাতো সহীহ্ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়, কোন কোন কিতাব আংটি কিংবা চুড়ি থাকলে নাড়িয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এও বলা হয়েছে যে, যদি এক গাছি লোম পরিমাণ স্থানও হাতে কিংবা মুখে মোছা না যায় তবে তায়াম্মুম হবেনা। এ সকল কথা প্রমাণহীন ও নব-আবিষ্কৃত বিদ’আত। ‘‘মাসাহা বিহিমা ওয়াজহাহু ওয়া কাফফাইহী’’ দ্বারা সঠিক অর্থ মুখমন্ডলও কব্জি মাসাহ্ করলেন যারা এর দ্বারা কনুই সহ হাত বুঝেছেন তারা ভুল করেছেন। কারণ, কনুই সহ দুই হাতের আরবী হল ‘‘যিরাউন’’ অতএব বুঝা গেল তায়াম্মুমের সঠিক তরীকা হল একবার পবিত্র মাটিতে হাত মেরে ফুঁ দিয়ে হস্তদ্বয় কব্জি পর্যন্ত এবং মুখমন্ডল একবার মাসাহ করা।
৯। প্রচলিত ভুলঃ ইক্বামাত ঠিক আযানের মত, তবে ‘‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’’-এর পর ‘‘কাদকামাতিস সলাহ’’ দুইবার বলতে হবে। (হিদায়া ইফাবা-১/৬৫ পৃঃ, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী-১/১১৬ পৃঃ, আল মুখতাছারুল কুদুরী মাদ্রাসার ৯ম-১০ম শ্রেণীর পাঠ্য-৬১ পৃঃ)
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, ‘বিলালকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সে যেন আযান জোড় অর্থাৎ দুবার দুবার দেয় এবং ইক্বামাত ক্বাদামাতিস সলাহ ব্যতীত বে-জোড় অর্থাৎ একবার দেয়। (সহীহ বুখারী ১/৮৫ পৃঃ, সহীহ মুসলিম ১/১৬৪-১৬৫ পৃঃ আবু দাউদ ১/৭৫ পৃঃ)
১০। আযানের দু’আ প্রচলিত ভুলঃ আমাদের দেশে রেডিও, টিভি ইত্যাদি প্রচার মাধ্যমে এবং বিভিন্ন ফিকহী গ্রন্থে কিছু অতিরিক্ত শব্দ বলা হয়, যেমনঃ ‘ওয়াদারাজাতির রাফিয়া’ এবং ‘ইন্নাকালা তুখলিফুল মি‘আদ’ (বেহেশতী জেওর, ২য় খন্ড ১২২ পৃঃ, মাসআলা-৯)
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম -এর পদ্ধতিঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘‘যে ব্যক্তি আযান শুনে দু’আ করে-আল্লা হুম্মা রববা হা-যিহিদ দা’ওয়াতিত তাম্মাহ, ওয়াছ ছলা-তিল ক্বা-য়িমাহ, আ-তি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাযীলা, ওয়াব‘আছহু মাক্বা-মাম মাহমূদানিল্লাযী ওয়া আত্ত্বাহ’- ক্বিয়ামাতের দিন সে আমার শাফা’আদ লাভের অধিকারী হবে।’ (সহীহুল বুখারী হা/৬১৪ পৃঃ ২৯৮) উল্লেখ্য যে, আযানের জওয়াব দান শেষে প্রথমে দরুদ পড়বে অতঃপর দু’আ পাঠ করবে। (সহীহ মুসলিম, মিশকাত হা/৬৫৭)
১১। প্রচলিত ভুলঃ ভারত, পাকিস্তান থেকে আগত ব্রেলভীও রেজভী- বিদ‘আতীদের অনুকরণে আমাদের দেশের এক শ্রেণীর তথাকথিক ধার্মিক মুসলিমদেরকে আযানের ইক্বামতের সময় ‘‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ’’ বাক্যটি শুনলেই দুই হাতের আঙ্গুলে চুমু খেয়ে তা দিয়ে চোখ মুছেন। এই মর্মে একটি মিথ্যা ও জাল হাদীসকে সত্য মনে করে তারা এই কাজ করেন বলে মনে হয়। (তাহের ফাতনী, তাযকিরাতুল মাউযূয়াত, ৩৬-৩৭ পৃঃ, মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী, আল-আসরার, ১১৩ পৃঃ, হাদীসের নামে জালিয়াত, ৩৬৬ পৃঃ)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ‘‘যে ব্যক্তি খালেস অন্তরে আযানের জবাব দেয়, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। (সহীহ্ মুসলিম, হা/৩৮৫) আযানের জবাব হ’ল মুয়ায্যিন যা বলবে তাই বলতে হবে। কেবল মাত্র ‘‘হাইয়্যা আলাস সাল্লাহ ও ফালাহ’’ এর জবাবে ‘‘লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা-বিল্লাহ’’ বলতে হবে। (সহীহ্ মুসলিম, আবু দাউদ, নাইনুল আউতার ২য় খন্ড-৫৩ পৃঃ)
১২। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের দেশে ফজরের আযানে ‘‘আস-সালা-তু খঅয়রুম মিনান নাউম’’ এর জওয়াবে ‘‘সাদ্দাক্বতা ওয়া বারাকতা’’ বলার কোন সহীহ্ ভিত্তি নেই। অনুরূপভাবে ইক্বামতের সময় ‘‘ক্বাদক্বা-মাতিস সালাহ’’ এর উত্তরে ‘‘আক্বা-মাহাল্লা-হুওয়া আদা-মাহা’’ বলার সম্পর্কে আবু দাউদে বর্ণিত হাদীসটি যঈফ। (আলবানী, ইরাওয়াউল গালীল-১/২৫৮-৫৯, মিশকাত-হা/ ৬৭০)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ উপরিউল্লিখিতি আযানের যবাবই সুন্নাত। (সহীহ্ মুসলিম, মিশকাত-হা/ ৬৫৭ আযানের যওয়াব দান অধ্যায়)
১৩। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের দেশে সাহরীর জন্য সুন্নাতি পদ্ধতি পরিহার করে বিভিন্ন বিদ‘আতী ও ইয়াহুদী- নাসারাদের অনুকরণে ঢোল, বাঁশি নিয়ে মধ্যরাত থেকে ডাকা ডাকি শুরু হয়। এবং মাসজিদ থেকে লাউডস্পিকার ও সাইরেন এর মাধ্যমে অব্যাহতভাবে ও কিছুক্ষণ পর পর (গজল, নাআত, তাক্বরীর সেহরীর অনুষ্ঠান ইত্যাদির মাধ্যমে) ডাকা হয় যা সম্পূর্ণরূপে বিদ‘আদ এবং ইবাদরত ব্যক্তি ও পিড়িত লোকজনকে কষ্ট দেওয়া হয় যা একেবারেই পরিত্যক্ত।
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) এর যুগে তাহাজ্জুদ ও সাহারীর আযান বেলাল (রাঃ) দিতেন, এবং ফজরের আযান অন্ধ সাহবী আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রাঃ) দিতেন। তাই সাহারী প্রসঙ্গে রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বলেনঃ‘‘ বেলাল রাত্রি থাকতে আযান দিলে তোমরা খানা পিনা কর, যতক্ষণ না ইবনে উম্মে মাকতূম আযান দেয়। কেননা সে ফজর না হওয়া পর্যন্ত আযান দেয়না। (সহীহ্ বুখারী, সহীহ্ মুসলিম, মিশকাত-হা/ ৬৮০-৮১) তিঁনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) আরো বলেনঃ ‘‘ বেলালের আযান যেন তোমাদেরকে সাহারী খাওয়া থেকে বিরত না করে। কেননা সে রাত্রি থাকতে আযান দেয় এজন্য যে, যেন তোমাদের তাহাজ্জুদ গোজার মুসল্লীগণ (সাহারীর জন্য) জেগে ওঠে। (কুতুবে সিত্তাহর সকল গ্রন্থ, তিরমিযী ব্যতীত, নায়ল-২/১১৭)
১৪। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের দেশে গ্রামে ও শহরে কিছু কিছু মাসজিদে আযানের আগে ও পরে মাইক ‘‘আস-সলাতু আসসালা-মু আলাইকা ইয়া রসূলুল্লাহ’’ বলা হয়। এতদ্ব্যতীত ঘুমের থেকে জাগার দু‘আ, সময় নিকটে, যিকির গজল, ওয়াজ ও কুরআন তিলাওয়াত, ইস্পিকার খুলেই আলহামদুলিল্লাহ ইত্যাদি শোনা যায়। অথচ এগুলি সবই বিদ‘আত এবং আযান ব্যতীত সব কিছুই পরিত্যাজ্য।
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ আযানের পরে পুনরায় ‘‘আস-সলাত’’ ‘‘আস-সলাত’’ বলে ডাকতে হযরত আবদুল্লাহ বিন ওমর (রাঃ) প্রমূখ ‘বিদ‘আত’ বলেছেন। (তিরমিযী, মিশকাত-হা/ ৬১৬ এর টিকা আলবানী, সলাতুর রসূল ৪৫ পৃঃ)। তবে ব্যক্তিগতভাবে যদি কেউ কাউকে সলাতের জন্য ডাকেন জাগিয়ে দেন, তাতে তিনি অবশ্যই নেকী পাবেন। (সহীহ্ বুখারী-১/৮৩)
১৫। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের সমাজে এক শ্রেণীর মৌলবীগণ ফাতওয়া দিয়ে থাকে যদি কেউ কোন কারণবশত ফজরের সুন্নাত পড়তে না পারে তা‘হলে সূর্য উঠার পর পড়তে হবে। (বেহেস্তী জেওর)
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ জামা‘আতের জন্য ইক্বামত হলে ফরয সলাত ব্যতীত অন্য কোন (সুন্নাত বা নফল) সলাত হবেনা (তিরমিযী, সহীহ্ মুসলিম, মিশকাত-হা/১০৫৬) অতএব ফজরের ইক্বামত হওয়ায় সুন্নাত না পড়ে আমা‘আতের সাথে ফরয পড়ে নিতে হবে। অতঃপর ফরয শেষ করে (সূর্য ওঠার আগেই) দু’রাক‘আত সুন্নাত পড়ে নিবে। এটাই সুন্নাতি নিয়ম। (তিরমিযী, আবু দাউদ, মিশকাত ৯৭ পৃঃ সহীহ্)
১৬। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের সমাজে তাথাকথীত কিছু সংখ্যক নামধারী আহলে হাদীসকে ‘বিসমিল্লাহ’কে সূরা ফাতিহার অংশ হওয়ার পক্ষে সৌদি আরবের কুরআনের নাম্বারকে দলীল হিসাবে উপস্থাপন করতে দেখা যায়। অনুরূপ ‘‘জেহেরী’’ অর্থাৎ স্বশব্দে পড়া সলাতে ‘বিসমিল্লাহ’ জোরে বলার দুর্বল হাদীস দ্বারা দলীল দিতে দেখা যায়। অথচ এর স্বপক্ষে নির্ভযোগ্য কোন ভিত্তি নেই।
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ বিসমিল্লাহ সূরা ফাতিহার অংশ হওয়ার স্বপক্ষে কোন সহীহ্ দলীল নেই (নায়ল ৩/৫২ পৃঃ সলাতূর রসূল-৪৯) আনাস বিন মালেক (রাঃ) বলেনঃ ‘‘ আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম), আবু বক্বর, ওমর ও ওসমান (রাঃ)-এর পিছনে সলাত আদায় করেছি। কিন্তু তাঁদের কাউকে ‘‘বিসমিল্লাহ’’ জোরে পড়তে শুনিনি।’’ (সহীহ্ মুসলিম, আহমাদ, নায়ল ৩/৩৯, দারাকুতনী-হা/ ১১৮৮-৯৫) ইবনু খুযায়মার রেওয়ায়াতে স্পষ্টভাবে এসেছে যে, তারা চুপে চুপে পড়তেন। (সহীহ্ ইবুন খুযায়মাহ-হা/৪৯৪-৭) দারাকুতনী বলেনঃ ‘‘বিসমিল্লাহ’’ জোরে বলার বিষয়ে কোন হাদীস ‘সহীহ্’ প্রমাণিত হয়নি। (নায়ল-৩/৪৭, ফিকহুয় সুন্নাহ-১/১০২, স. রসূল-৫০)
ফুটনোটঃ** বিষয়টি নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। - বাংলা হাদিস
১৭। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের সমাজে অনেক মুসল্লিদের ‘তাকবীরে তাহরীমার’ সময় কানের লতি স্পর্শ করতে দেখা যায়, এবং অনেক কথীত মৌলবীদের সতর্কতা বসত কানে হাত লাগানোর কথা বলতে শুনা যায়।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) হস্তদ্বয়কে কাঁধ বরাবর উঠাতেন। (সহীহ্ বুখারী-২ হা/৬৯৯-৭০০-৭০১-৭০২-৭০৩, সহীহ্ মুসলিম-২ হা/ ৭৪৫-৭৪৬-৭৪৮) আবার কখনও বা কানের লতি বরাবর উঠাতেন (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, নাসাঈ, সহীহ্ মুসলিম-২/১৪২ হা/৭৪৯-৭৫০)
১৮। প্রচলিত ভুলঃ প্রত্যেক ওয়াক্ত ফজর, যোহর, আছর, মাগরিব, এশা এবং বিত্র, জুমুআ, ঈদ ও অন্যান্য সলাত ফরয, সুন্নাত নফল এর জন্য পৃথক পৃথক আরবী নিয়্যাত পড়া হয়। (বেহেশতী জেওর ২/১৩০-১৩২ মাসআলা) অনুবাদে বলা হয়েছে ‘তবে বুযুর্গানে দ্বীন আরবী নিয়্যাত পছন্দ করিয়াছেন’ তাই আরবী নিয়্যাত করিতে পারিলে ভাল। নিম্মে আরবী নিয়্যাত লিখিয়া দেওয়া হইয়াছে। কিন্তু মূল কিতাবে নিয়্যাত লেখা নাই।
* রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ কোন জিনিষ সম্পন্ন করার ব্যাপারে মনের দৃঢ় সংকল্প এবং অন্তরের গভীর ইচ্ছা পোষণ করাকে শরীয়াতের পরিভাষায় নিয়্যাত বলে। আর উহার স্থান হলো-অন্তর বা কলব, এর সাথে মুখে উচ্চারণ করার কোন সম্পর্ক নেই। (ইগাছাতুল লুহফান-১/১৫৬ পৃঃ) সলাতে নিয়্যাত ফরয এবং শর্ত বটে, কিন্তু মৌখিক বলার অবকাশ নেই। মনে মনে খেয়াল করিয়া আল্লাহু আকবার বলিয়া হাত বাঁধিবে, ইহাতে সলাত হইয়া যাইবে। সাধারণের মধ্যে যে লম্বা চওড়া নিয়্যাত মাশহুর আছে, উহা বলার কোন প্রয়োজন নাই। (বেহেশতী জেওর-২/১৩০) হাফেয ইবনে কাইয়িম (রহঃ) লিখিয়াছেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সলাতে দাঁড়াইতেন, তখন আল্লাহ আকবার বলিতেন এবং পূর্বে কিছুই বলিতেন না এবং মুখে কোন নিয়্যাত উচ্চারণ করিতেন না এবং একথাও বলিতেন না যে, আমি অমুক চার রাক’আত সলাত কিবলা মুখ করিয়া ইমাম অথবা মুক্তাদি হইয়া পড়িতেছি এবং আদা ও কাযা বা কোন ওয়াক্তের নাম নেন নাই। এইরূপ করা সম্পূর্ণরূপে বিদ’আত। এ ব্যাপারে একটি শব্দও রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) কর্তৃক সহীহ্ সনদে বা যঈফ সনদে অথবা মুরছাল কোন হাদীসে বর্ণিত হয় নাই বরং এইরূপ কোন কার্য তাহার কোন সাধারণ সাহাবী কর্তৃক বর্ণিত হয় নাই, এবং এটা একজন তাবেঈনও পছন্দ করেন নাই। এমনকি ইমাম চতুষ্টয়ও মনপুতঃ মনে করেন নাই। (যাদুল মা’আদ ১/৫১ পৃঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ‘আমলসমূহ নিয়্যাতের উপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়্যাত করবে।’ (১/৪১ সহীহ বুখারী, ৯/৪৬ সহীহ মুসলিম) আল্লামা মোল্লা কারী হানাফী বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) ত্রিশ হাজার সলাত পড়েছেন। তথাপি তাঁর থেকে একথা বর্ণিত নেই যে, আমি অমুক অমুক সলাতের নিয়্যাত করছি। তাঁর এই নিয়্যাত না পড়াটা সুন্নাত। যেমন তাঁর কাজ করা সুন্নাত। (মিশকাত১/৩৭ পৃঃ) তিনি অন্যত্র বলেন, শব্দ উচ্চারণ করে নিয়্যাত করা নাজায়িয। কারণ এটা বিদ’আত। অতএব, যে কাজ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) করেন নি সে কাজ সর্বদা যে করে সে বিদআতী।
১৯। প্রচলিত ভুলঃ প্রচলিত সলাতে তাকরীরে তাহরীমার পূর্বে মুসাল্লাহ্র দু’আ [জায়নামাজের দু'আ] হিসাবে ‘ইন্নি ওয়াজ্জাহাতু’-পড়া হয়
(রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ কোন সহীহ হাদীসে এইরূপ পড়ার নির্দেশ নাই। সহীহ হাদীসে আছে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘‘সলাত শুরু হয় তাকবীর তাহরীমা বা আল্লাহু আকবার বলে এবং শেষ হয় সালামের মাধ্যমে। ‘ইন্নি ওয়াজ্জাহতু’- তাকবীরে তাহরীমার পর (সানা হিসাবে) পড়ার কথা হাদীসে আছে। (সহীহ বুখারী-১/১৩ পৃঃ, সহীহ মুসলিম-২১৯, ২৬৩, ২৬৪ পৃষ্ঠা, আবু দাউদ ১/১১০ পৃঃ তিরমিযী-২/১৭৯, ১৮০ পৃঃ, নাসাঈ -১/১৪২ পৃঃ, মিশকাত মাদ্রাসার পাঠ্য-২/৭৫৭, ৭৬৪
২০। প্রচলিত ভুলঃ দাঁড়ানো অবস্থায় উভয় পায়ের মাঝে চার আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁকা রাখা উচিত (খুলাসা, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী-১৯৪) এজন্যই দেখা যায় প্রচলিত সলাতে মুক্তাদিগণ কাঁধের সাথে কাঁধ এবং একে অপরের পায়ের সাথে পা মিলিয়ে না দাঁড়িয়ে বরং ফাঁক ফাঁক হয়ে দাঁড়ান, এটা সহীহ হাদীসের পিরীত। আর উল্লিখিত মাসআলার অনুসরণে একজনের দু’পায়ের মাঝে, চার আঙ্গুল ফাঁক রাখলে কষ্মিনকালেও অন্যের পায়ের সাথে পা মিলানো সম্ভব নয়। অথচ ঐ চার আঙ্গুল ফাঁক রাখাটা একটা কিয়াস যা সহীহ্ হাদীসের বিরোধী।
(রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ‘‘তোমরা তোমাদের কাতার সোজা করে নাও। কেননা আমি আমার পিছন দিক থেকেও তোমাদেরকে দেখতে পাই। (রাবী আনাস-রাঃ- বলেন) আমাদের প্রত্যেকেই তার পার্শ্ববর্তী ব্যক্তির কাঁধের সাথে কাঁধ এবং পায়ের সাথে পা মিলাতাম। (সহীহুল বুখারী) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) আরো বলেনঃ ‘‘তোমরা তোমাদের কাতার সমূহের মধ্যে পরস্পর ঘাড়সমূহকে সোজা রাখ। সেই সমহান সত্তার কসম যার হাতে আমরা প্রাণ! শয়তানকে দেখি সে কাতারের ফাঁক সমূহে প্রবেশ করে যেন কালো ভেড়ার বাচ্চা। (আবু দাউদ, দেখুন সহীহ বুখারী-১০০ পৃঃ, সহীহ মুসলিম-১৮২ পৃঃ, আবু দাউদ-৯৭ পৃঃ, তিরমিযী-৫৩ পৃঃ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ- ৭১ পৃঃ দারা কুতনী-১/২৮৩ পৃঃ)
২১। প্রচলিত ভুলঃ প্রচলিত সলাতে নারীগণ বুকের উপর এবং পুরুষগণ নাভির নীচে হাঁত বাঁধে যার কোন বিশুদ্ধ ভিত্তি নাই। এক্ষেত্রে আহমাদ ও আবু দাউদ বর্ণিত হাদিসটি দলীল হিসাবে পেশ করা হয়। আলী (রাঃ) বলেনঃ ‘‘সুন্নাত হচ্ছে সলাতে ডান হাতকে বাম হাতের উপর রেখে নাভীর নীচে রাখা।’’ কিন্তু হাদিসটির সনদ দুর্বল, তাই উহা আমলযোগ্য নয়, তার বিপরীত সহীহ হাদীস নিম্মে উল্লেখ করা হলো।
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ সাহল বিন সা’য়াদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ সলাতে লোকদেরকে ডান হাত বাম হাতের বাহুর উপর স্থাপন করার নির্দেশ দেওয়া হতো। (সহীহ বুখারী আঃ প্রঃ হা/৬৯৬, সহীহ্ মুসলিম ২/হা/৭৮০, ইফাবা আবু দাউদ ১/হা-৭৫৯।
২২। প্রচলিত ভুল পদ্ধতিঃ আমাদের সলাতে মুক্তাদিগণ ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পাঠ করে না। অথচ সূরা ফাতিহা ছাড়া সলাত হয় না। (মিশকাত মাদ্রাসার পাঠ্য-২/৩৩০ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে মুক্তাদিদের সূরা ফাতিহা পড়া জায়েজ নয়।)
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ‘‘যে ব্যক্তি এমন সলাত পড়ল যাতে সূরা ফাতিহা পড়ে নাই সে সলাত ত্রুটিপূর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ তথা অসম্পূর্ণ’’ (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) একদা ফজরের সলাত শেষে বলেন, তোমরা কি ইমামের পিছনে পাঠ কর? আমরা বললাম, হাঁ দ্রুত পড়ে নিই। তিনি বললেন, এরূপ করো না। তবে সূরা ফাতিহা পড়ে নিও। কেননা যে ব্যক্তি এ সূরা পড়বে না তার সলাত হবে না। (আবু দাউদ, তিরমিযী) তিনি আরো বলেন, যে ব্যক্তি সলাতে সূরা ফাতিহা পড়ল না তার সলাত হল না। (সহীহ বুখারী ১/১০৪ পৃঃ)
২৩। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের দেশে জেহ্রী সলাতে উচ্চৈস্বরে আমীন বলা হয় না, যা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) ও সাহাবাদের আমলের বিপরীত। বরং ইমাম ও মুক্তাদির সকলকেই সরবে আমীন বলতে হবে। কেননা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) জেহ্রী সলাতে উচ্চৈস্বরে আমীন বলতেন এবং মুক্তাদিদেরও উচ্চৈস্বরে বলার নির্দেশ দিতেন।
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ আবু হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বলেন, ইমাম যখন আমীন বলে তখন তোমরাও আমীন বলো। কেননা যার আমীন বলা ফেরেশতাদের আমীন বলার সাথে মিলে যাবে তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। তাবেয়ী আতা (রহ) বলেছেন, আমীন হলো দু’আ। আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাঃ) এবং তাঁর পিছনে মুক্তাদিরা আমীন বলতেন। এমনকি মাসজিদে গুনগুন শব্দ শোনা যেত। (সহীহ বুখারী) ওয়ায়িল বিন হুজুর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ‘আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) কে ‘‘গায়রিল মাগযূবি আলাইহিম ওয়ালায্যাল্লীন’’ পড়তে শুনেছি। অতঃপর তিনি নিজের স্বরকে উচ্চ করে আমীন বলেছেন। (তিরমিযী) (বিস্তারিত দেখুন-সহীহ বুখারী ১/১০৭, ১০৮, মুসলিম-১৭৬ পৃঃ, আবু দাউদ- ১৩৪ পৃঃ, তিরমিযী-৫৭,৫৮ পৃঃ নাসাঈ-১৪০ পৃঃ, ইবনু মাজাহ-৬২ পৃঃ, মিশকাত-৭৯-৮০ পৃঃ)
২৪। প্রচলিত ভুলঃ অধিকাংশ মুসল্লী শুধুমাত্র তাকবীর তাহরীমা অর্থাৎ সলাত শুরুর তাকবীর বলার সময় ‘রফউল ইয়াদাঈন’ বা হাত উত্তোলন করে থাকে; কিন্তু পরবর্তীতে রুকুর আগে ও পরে তা করে না (আবার অনেকে তাকবীরে তাহরীমার সময়ও করে না)- এটা সুন্নাত বিরোধী।
* রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ আবদুল্লাহ ইবনে‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) কে দেখেছি তিনি যখন সলাতের জন্য দাঁড়াতেন তখন উভয় হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন এবং তিনি যখন রূকু’র জন্য তাকবীর বলতেন তখনও এরূপ করতেন (হাত উঠাতেন)। আবার যখন রূকু হতে মাথা উঠাতেন তখনও এরূপ করতেন। ইমাম বুখারী এটা বর্ণনা করেছেন। তাঁর অপর বর্ণনায় এটাও আছে যে, যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) দ্বিতীয় রাক‘আত হতে তৃতীয় রাক‘আতের জন্য দাঁড়াতেন তখনও দুই হাত (কাঁধ বরাবর) উঠাতেন। (সহীহ বুখারী-১/১০২ পৃঃ, সহীহ মুসলিম-১৬৮ পৃঃ, আবু দাউদ-১/১০৪, ১০৫ পৃঃ, তিরমিযী-১/৫৯ পৃঃ, নাসাঈ-১৪১-১৫১, ১৬২ পৃঃ, ইবনু খুজাইমাহ-৯৫,৯৬, মিশকাত-৭৫ পৃঃ, ইবনে মাজাহ-১৬৩ পৃঃ,, যা‘আদুল মা‘আদ-১/১৩৭, ১৩৮, ১৫০ পৃঃ, হিদায়া দিরায়াহা-১১৩-১১৫ পৃঃ, মিশকাত মাদ্রাসার পাঠ্য-২/৭৩৮-৭৩৯, ৭৪৯, ৭৪১, ৭৪৫ পৃঃ, ইসলামিয়াত বি,এ হাদীস পর্ব-১২৬-১২৯ পৃঃ)
উল্লেখ্য যে, দু’হাত তুলা প্রসঙ্গে কিছু লোক সহীহ হাদীসের উপর আমল না করার জন্য ভান করে মিথ্যা ও বানোয়াট কথার আশ্রয় নিয়ে বলে যে, ইসলামের প্রথম যুগে পুতুল পুজারী নও মুসলিমরা সলাতের সময়ও বগলে পুতুল নিয়ে আসতো। তাই নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) তাদেরকে রুকুতে যাবার ও রুকু হতে মাথা তোলার সময় দু’হাত তুলতে বলেছিলেন। এসব কথা কোন হাদীসে তো দূরের কথা এমনকি ইতিহাসেও প্রমাণহীন। বরং তা ভিত্তিহীন মিথ্যা ছাড়া কিছুই নয়। যারা এসব কথা বলে তাদের ভয় করা উচিৎ যে, এই মিথ্যা অপবাদটি স্বয়ং রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) এর উপর ও তাঁর সাহাবীদের উপর পড়ে (নাউযুবিল্লাহ) কারণ তাঁরা মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত রুকুর পূর্বেও পরে হস্তদ্বয় উত্তোলন করেছেন। (বায়হাকী, তালখীসুল হাবীব ৮১ পৃঃ আদদেরায়াহ-৮৫ পৃঃ) সাবধান! এ অপবাদই জাহান্নামী হওয়ার জন্য যথেষ্ট। এই মর্মে আবু দাউদে বর্ণিত যা সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেনঃ তিনি (স.) কেবলমাত্র তাকবীরে তাহরীমার সময় ১ বার দু’হাত তুলতেন। (আবু দাউদ, মিশকাত, ৭৭ পৃঃ) কিন্তু এ হাদীস সম্পর্কে ইমাম আবু দাউদ (রহঃ.) নিজেই বলেন, হাদীসটি সহীহ নয় (মিশকাত ৭৭ পৃঃ) মোল্লা আলী ক্বারী আল হানাফী (রহঃ) বলেনঃ সলাতের রুকুতে যাবার সময় এবং রুকু হতে উঠার সময় দু’হাত না তুলা সম্পর্কে যেসব হাদীস বর্ণিত হয়েছে সেগুলো সবই বাতিল হাদীস। তন্মধ্যে একটিও সহীহ নয়- যেমন ইবনে মাসুদের (রা.) হাদীস। (মাউযুআতে কাবীর ১১০ পৃঃ আইনী তুহফা-১/১৩১ পৃঃ) লক্ষনীয় যে, হানাফী মাযহাবের বিশিষ্ট মুহাদ্দীস আল্লামাহ আইনী আল-হানাফী (রহঃ) রুকুতে যাওয়ার আগে দু’হাত তুলার ব্যাপারে ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) সম্পর্কে লিখেছেনঃ ইমাম আবু হানীফা হতে বর্ণিত যে, তা অর্থাৎ রফউল ইয়াদাইন ত্যাগ করলে গুনাহ হবে। (ওমদাতুল ক্বারী-দারুল ফিকর ছাফা, ৫/২৭ পৃঃ আইনী তুহফা-১/১৩১ পৃঃ) অতএব প্রতিটি মুসলিমের প্রতি আমার অনুরোধ আল্লাহকে ভয় করুন, গোড়ামী ও মিথ্যার আশ্রয় বাদ দিয়ে সহীহ হাদীসের উপর আমল করুন। কারণ ইমাম আবু হানীফা (রহ.) বলেছেন, ‘সহীহ হাদীস পেলে সেটাই আমার মাযহাব বলে গণ্য করবে।’
২৫। প্রচলিত ভুলঃ প্রচলিত সলাতের প্রথম ও তৃতীয় রাক‘আতে অর্থাৎ বেজোড় রাক‘আতে সাজদাহ্ হতে উঠে ‘না বসে’ সোজা দাঁড়িয়ে যাওয়া হয়। এটা সুন্নাত বিরোধী। ‘দাঁড়াইবার সময় বসিবেনা এবং হাত দিয়া মাটিতে ভর করিয়া দাঁড়াইবে না।’ (কুদুরী-৬৬ পৃঃ)
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ মালিক ইবন হয়াইরিস আল-লাইসা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) কে সলাত পড়তে দেখেছেন। যখন তিনি তাঁকে সলাতে বেজোড় রাক‘আতে (সাজদাহ্ হতে) দাঁড়াতেন তখন তিনি সোজা না বসে দাঁড়াতেন না। (সহীহ বুখারী-১/১১৩ পৃঃ, আবু দাউদ ১১১, ১১২ পৃঃ, নাসাঈ-১৭৩ পৃঃ, ইবনু মাজাহ-২৬৪ পৃঃ, মিশকাত-৭৫ পৃঃ, তিরমিযী ই.ফা.বা.-১-হা/৭৬৯)
২৬। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের দেশে অধিকাংশ ইমাম, মুক্তাদি দু’সাজদাহ্র মাঝে বসে কোন দু’আ পড়েন না, এটা সুন্নাত বিরোধী।
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ দুই সাজদাহর মাঝখানে বসে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) এই দু’আটি পাঠ করতেনঃ‘ আল্লাহুম্মাগাফিরলী আয়ারহামনি ওয়াহদিনি ওয়া’আফিনী ওয়ারযুক্নী’ (সহীহ বুখারী)
২৭। প্রচলিত ভুলঃ দন্ডায়মান এবং বসাঅবস্থায় পিঠ সোজা না রাখা যেমন পিঠ কুঁজো করে রাখা বা ডানে-বামে হেলে থাকা। অনুরূপভাবে রুকু’ ও সাজদাহা্য় পিঠ সোজা না রাখা।
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ রাসুলুল্লাহ্ (স) বলেন ‘‘যে ব্যক্তি রুকূ-সাজদায় পিঠ সোজা করে না, আল্লাহ তার সলাতের দিক দৃষ্টিপাত করবেন না।’’ (তাববারানী সহীহ সনদে) তিনি আরো বলেন, ‘অতিম্মুর রুকূ ওয়াস্সুজুদ’ অর্থাৎ তোমরা রুকূ ও সাজদাহ পরিপূর্ণরূপে আদায় কর। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
২৮। প্রচলিত ভুলঃ রুকূ অবস্থায় প্রশান্তি ও ধীরস্থিরতা অবলম্বন না করা। দেখা যায় অনেকে তাড়াহুড়া করে সলাত আদায় করতে গিয়ে ভালভাবে রুকূ-সাজদাহ্ করে না, রুকূর সময় পিঠ সোজা না করে মাথাটা একটু নীচু করে। মোরগের মত করে সাজদাহ্ করে। অথচ এভাবে সলাত আদায়কারীকে নিকৃষ্ট চোর বলা হয়েছে। আর তার সলাতও বিশুদ্ধ হবে না।
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ হুযাইফা (রাঃ) দেখলেন জনৈক ব্যক্তি অপূর্ণরূপে রুকূ-সাজদাহ্ করছে। তিনি তাকে বললেন, তুমি তো সলাত আদায় করোনি। তুমি যদি এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ কর, তবে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-কে আল্লাহ্তা’আলা যে ফিতরাত (বা ইসলাম) দিয়ে প্রেরণ করেছেন, তুমি তা ভিন্ন অন্য ফিতরাতের উপর মৃত্যুবরণ করবে। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)। আবু হুরাইরা (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি দেখলেন, এক ব্যক্তি মাসজিদে নববীতে প্রবেশ করে সলাত আদায় করল। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, তুমি ফিরে গিয়ে সলাত আদায় কর, কেননা তুমি সলাত আদায় করোনি। এইভাবে লোকটি তিনবার আদায় করল ও রসূল (স) তাকে তিনবার ফিরিয়ে দিলেন, তখন লোকটি বলল, হে রসূল! আমাকে সলাত শিখিয়ে দিন.... (অতঃপর তিনি তাকে ধীরে সুস্থ্যে সলাত আদায় শিক্ষা দিলেন)। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, মিশকাত হা/৭৯০)
২৯। প্রচলিত ভুলঃ প্রচলিত সলাতে মুসল্লীদের দেখা যায় সাজদাহ্র স্থানে দৃষ্টি না রেখে আকাশের দিকে দৃষ্টি বা অন্য দিকে দৃষ্টিপাত করতে, যা সুন্নাত বিরোধী। অথচ দৃষ্টি নত রাখা এবং সার্বক্ষণিক দৃষ্টি সাজদাহ্র স্থানে রাখার জন্য নির্দেশ রয়েছে। তবে তাশহদ অবস্থায় ডান হাতের তর্জনী খাড়া রেখে তা নাড়াতে হবে এবং তার উপর দৃষ্টি রাখতে হবে।
* রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘‘কি হয়েছে কিছু লোকের যে, তারা সলাতরত অবস্থায় আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করে? তার পর তিনি কঠোর শব্দ ব্যবহার করে বলেন, ‘‘তারা এথেকে বিরত হবে; অন্যথায় তাদের দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নেওয়া হবে।’’ (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম) সলাত অবস্থায় ডানে-বামে দৃষ্টিপাতের ব্যাপারে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘‘এটা হচ্ছে বান্দাহর সলাত থেকে কিছু অংশ শয়তানের ছিনিয়ে নেওয়া।’’ (সহীহ বুখারী)
৩০। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের দেশে সলাত বৈঠকে অর্থাৎ ‘তাশহদ’ পড়ার সময় ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা’ বলার সঙ্গে সঙ্গে শাহাদাত আঙ্গুল উঠিয়ে আবার ইল্লাল্লাহু বলে টুপ করে নামিয়ে ফেলা হয়। এরূপ করার কথা কোন হাদীসেই বলা হয়নি।
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ তাশহ্হুদ বা আত্তাহিয়্যাতু পড়া শুরু থেকে বৈঠকের শেষ পর্যন্ত উক্ত আঙ্গুল উঠিয়ে রাখতে হবে এবং নাড়াতে হবে। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বাম হাতের তালু বাম হাঁটুর উপর বিছিয়ে দিতেন, আর ডান হাতের সবগুলো আঙ্গুল মুষ্টিবদ্ধ করে তর্জনী দ্বারা কিবলার দিকে ইঙ্গিত করতেন এবং সেদিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেন।’ (সহীহ মুসলিম-১৬২ পৃঃ, আবু দাউদ-১৪২ পৃঃ, নাসাঈ-১৮৭ পৃঃ, মিশকাত-৮৫ পৃঃ, ইসলামিয়াত-বি,এ হাদীস পর্ব ১৯১, ১৯২ পৃঃ)
৩১। প্রচলিত ভুলঃ তাকবীর তিলাওয়াত ও সলাতের অন্যান্য দু’আর সময় ঠোঁট না নাড়িয়ে শুধু মনে মনে বলা-এটি একটি বহুল প্রচিলত ভুল।
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ বিশুদ্ধ পদ্ধতি হলো ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, ইমাম ছাড়া অন্য সবার জন্য সুন্নাত হচ্ছে চুপে চুপে পাঠ করা। চুপে চুপে বলার সর্বনিম্ন সীমা হচ্ছে নিজেকে শোনানো- যদি তার শ্রবণশক্তি ঠিক থাকে এবং কথায় কোন জড়তা না থাকে। এ বিধান সকল ক্ষেত্রে’ ক্বিরাত পাঠ, তাকবীর, রুকূ সাজদাহর তাসবীহ্ প্রভৃতি।’ তাছাড়া ঠোঁট না নাড়ালে তো তাকে পড়া বলা চলে না। কারণ, আরবীতে এমন অনেক অক্ষর আছে ঠোঁট না নাড়ালে যার উচ্চারণই হবে না (কিন্তু নিয়্যাত এর ক্ষেত্রে এর বিপরীত)।
৩২। প্রচিলত ভুলঃ তাশাহ্হুদে বসে দরূদ পাঠ করার সময় অনেক সুফিদের শোনা যায় (সাইয়েদেনা) শব্দ বৃদ্ধি করে পাঠ করতে। (মোকছুদুল মোমেনীন বেহেস্তের কুণ্জী-৩১৬-১৭)
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ হাফেয ইবনু হাজার (রহঃ) বলেন, ‘দু’আ যিকিরের ক্ষেত্রে হাদীসে প্রমাণিত শব্দাবলী উচ্চারণ করাই সুন্নাতসম্মত।’ তাছাড়া কোন সহীহ্ হাদীস, সাহাবী বা তাবেঈদের আমল থেকে এর কোন প্রমাণ নেই।
৩৩। প্রচলিত ভুলঃ শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদে ‘তাওয়াররুক’ না করাঃ অধিকাংশ মুসল্লী সব ধরণের তাশাহ্হুদে বসে ইফতেরাশ করে। (তাওয়াররুক হচ্ছে, ডান পা খাড়া রেখে বাম পা-কে ডান পায়ের নীচে দিয়ে সামনের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে নিতম্বের উপর বসা।)
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ আবু হুমাইদ সায়িদী (রাঃ) বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) যখন দু’ রাক’আতে বসতেন (অর্থাৎ মাঝখানে বৈঠকে) তখন বাম পায়ের উপর বসতেন, ডান পা খাড়া রাখতেন। আর যখন শেষ রাক’আতে বসতেন তখন বাম পা (ডান পায়ের নীচে দিয়ে) সামনের দিকে বাড়িয়ে দিতেন এবং ডান পা খাড়া করতেন তারপর নিতস্বের বা উরুর উপর বসতেন। (সহীহ বুখারী-১/১১৪ পৃঃ, সহীহ মুসলিম-১/১৪ পৃঃ, আবু দাউদ-১/১৩৮ পৃঃ, তিরমিযী-৩৮, ৩৯ পৃঃ নাসাঈ-১৭৩ পৃঃ, ইবনু মাজাহ-১৮৭ পৃঃ, মিশকাত মাদ্রাসার পাঠ্য হা/ ৭৩৬, ৭৪৫)
৩৪। প্রচলিত ভুলঃ বিতর সলাতে দু’আ-ই কুনূত পড়িবার পূর্বে তাকবীর বলিয়া হাত উঠাইবে তৎপর দু’আ পড়িবে (কুদুরী-৬৮ পৃঃ) এর কোন প্রমাণ সহীহ হাদীসে নেই।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ‘‘নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) সলাতের প্রথম তাকবীরের মতো ইসতিসকা ব্যতীত অন্য কোন দু‘আয় কাঁধ বরাবর হস্তদ্বয় উঠাতেন না। (নাসাঈ-২/৪১৬ পৃঃ)
৩৫। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের দেশে শুধুমাত্র তিন রাক’আত বিতর সলাতকে সীমাবদ্ধ ধরা হয় (হিদায়া-ই.ফা.বা-১/১১৮ পৃঃ) অথচ তা সহীহ নয়। কারণ সহীহ হাদীস দ্বারা এক থেকে নয় রাক’আত পর্যন্ত বিতর সলাত সাব্যস্ত আর এক দল তথাকথিত মৌলবীরা তো এক রাক’আত সলাত স্বীকারই করে না।
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ বিতর অর্থ বে-জোড়। রাতের সলাতকে বে-জোড় করার জন্য বিত্র পড়া হয়। বিতরকে আল্লাহ পছন্দ করেন, কেননা আল্লাহ বিত্র। আবদুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেনঃ ‘‘ আল বিতরু রাকাআতুন মিন আখিরিল লাইলি।’’ বিত্র হ’ল এক রাক’আত রাতের শেষাংশে (সহীহ্ মুসলিম)। তাছাড়া এক, তিন, পাঁচ, সাত, নয়, রাক’আত ও বিত্র পড়া যায় (দেখুন সহীহ বুখারী-১৩৫, ১৫৩ পৃঃ, সহীহ মুসলিম-২৫৩, ২৫৪, ২৫৫, ২৫৬ পৃঃ, আবু দাউদ-২০১ পৃঃ, নাসাঈ-২৪৬, ২৪৭ পৃঃ, তিরমিযী-১/১০৬ পৃঃ, মিশকাত মাদ্রাসার পাঠ্য- ২/ হা/১১৮৫, ২২৮৬, ১১৯৬ পৃঃ, রায়হাকী-৩/৪১-৪৩ পৃঃ)
৩৬। প্রচলিত ভুলঃ বিত্র সলাতে প্রচলিত দু‘আ যথা ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাঈনুকা’ আমরা সহীহ সূত্রে পাই নাই বরং সেটা মুরসাল বা যঈফ (বাইহাক্বী-২/২১১)
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ হাসান বিন আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ‘আমার মাতামহ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) আমাকে কিছু কথা শিখিয়েছেন, যা আমি বিতরের সলাতে কুনূতে পাঠ করি তা হল-আল্লা-হুম্মাহদিনী ফিমান হাদাইতা..... তাবারাকতা রববানা ওয়াতা আ-লাইতা, লা-মানজা নিকা ইল্লা-ইলাইকা। (তিরমিযী-১/৪২৯, ইবনু মাজাহ-২/৪৬০, নাসাঈ-২/২৯৯) কিন্তু নাসাঈতে কুনুতের শেষে এই বর্ধিত অংশ উল্লেখ রয়েছেঃ ‘‘ওয়া সাল্লাল্লাহু আলান্নাবিইয়ি’’ যার প্রচলন আহলে হাদীসদের কিছু লোকের মধ্যে দেখা যায়। অথচ এর সনদ যঈফ। একে যঈফ বলেছেন হাফিয ইবনু হাজার, কাসত্বলানী, যরক্বানী ও অন্যান্যগণ এজন্যই বর্ধিত অংশ বলা। একত্রিত করার ক্ষেত্রে আমাদের রীতি অনুযায়ী এখানে তা উল্লেখ করলাম না। (শাইখ আল-আলবানী রহিমাল্লাহ)
৩৭। প্রচলিত ভুলঃ ফরয সলাতের ইক্বামাতের পর নফল পড়া মাকরুহ। কিন্তু ফজরের বিষয়টি এর থেকে ব্যতিক্রম। যদি জামাআত সম্পূর্ণ ছুটে যাবার আশংকা না থাকে তবে ইক্বামাতের পরও ফজরের সুন্নাত জায়িয। (ফাতওয়ায়ে আলমগীরী-১৪৮ পৃঃ)
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ অথচ বুখারীতে একটি অধ্যায়ে রচিত হয়েছে-ইকামাত হয়ে গেলে ফরয ব্যতীত অন্য কোন সলাত নেই। এই অধ্যায়ে যে হাদীসটি এসেছে তা হলো রাসূলুল্লাহ (স) ফজরে (সলাতে) এক ব্যক্তিকে ইক্বামাত হয়ে যাবার পর দু’রাক’আত সলাত আদায় করতে দেখলেন। অতঃপর ফরয সলাত শেষে উক্ত ব্যক্তিকে বললেন ফজর কি চার রাক’আত? এ কথা দু’বার বললেন। (সহীহ বুখারী, তাওহীদ-১/২১/৬৬৩) অথচ আমাদের দেশের মৌলবীরা বলেন ফজরের দু’রাক’আত সুন্নাতের গুরুত্ব অনেক বেশী তাই এর অনুমতি আছে। তাদের নিকট প্রশ্ন হল-গুরুত্বটা কি ফরয সলাতের চেয়েও বেশী? অথচ ফজর বা অন্য কোন ফরয সলাতের জামাআত শুরু হবার পর কেউ মাসজিদে এলে অথবা কেউ সুন্নাত পড়া অবস্থায় থাকলে তাকে সুন্নাত ছেড়ে দিয়ে জামাআতে শরীক হতে হবে। ইক্বামাতের পর সুন্নাত সলাত পড়া বৈধ নয়। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘‘যখন জামাআতের জন্য ইক্বামাত দেওয়া হয় তখন ফরয ব্যতীত অন্য কোন সলাত নেই। বায়হাকীর বর্ণনায় আছে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) কে বলা হ’ল ফজরের সুন্নাত দু’রাক’আতও পড়া যাবে না? রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ফজরের দু রাক’আতও পড়া যাবে না। (সহীহ বুখারী-২/১২১ পৃঃ, সহীহ মুসলিম-১/২৪৭ পৃঃ, আবু দাউদ-১/১৮১ পৃঃ, তিরমিযী-১/৯৬ পৃঃ, নাসাঈ-১৩৮, ১৩৯ পৃঃ)
৩৮। প্রচলিত ভুলঃ সাজদাহ্র সময় মাটিতে বা মুসাল্লায় হাত বিছিয়ে দেওয়া যা আমাদের দেশের নারীগণ (অধিক পর্দার কারণে) করে থাকে অথচ তা ‘‘সহীহ হাদীসের খেলাফ সাজদাহর সময় জড়ো সড়ো হইয়া সাজদাহ করিতে হইবে। তখন বাহুদ্বয় শরীরের সহীত, পেট রানের সহীত, রান হাঁটুর নলার সহীত এবং হাঁটুর নলা যায়নামাযের সহীত মিলাইয়া রাখিতে হইবে। অর্থাৎ মহিলাদের সাজদাহ্র সময় একমাত্র মস্তক ব্যতীত সর্ব শরীরের অঙ্গ সমূহ একত্রে মিলাইয়া সাজদাহ্ করিতে হইবে।’’ (মোকছুদুল মোমেনীন-১৭৫)
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ‘‘ সাজদায় (অঙ্গ প্রত্যঙ্গের) সামাঞ্জস্য রক্ষা কর এবং তোমাদের মধ্যে কেউ যেন দু’হাত বিছিয়ে না দেয় যেমন কুকুর বিছিয়ে দেয়। (সহীহ বুখারী-ই.ফা.বা-২/ হা/৭৮৪) অনুরূপভাবে সাজদাহর সময় দু’বাহু পার্শ্বদেশ থেকে পৃথক রাখতে হবেঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) যখন সলাত আদায় করতেন, তখন উভয় হাত (সাজদাহর মধ্যে) এরূপ করতেন যে, তাঁর উভয় বগলের শুভ্রতা প্রকাশ হয়ে পড়ত। (সহীহ্ বুখারী-ই.ফা.বা-২/হা/৭৭০)
৩৯। প্রচলিত ভুলঃ ফজরের সলাত বিলম্বে আদায় করা মুস্তাহাব। (ফাতওয়ায়ে আলমগীরী-১৪৫ পৃঃ)
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ‘‘মহিলাগণ সর্বাঙ্গ চাদর ঢেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) এর সাথে ফজরের জামাআতে হাযির হতেন। তারপর সলাত আদায় করে তারা যার যার ঘরে ফিরে যেতেন। আঁধারে কেউ তাদের চিনতে পারত না। সহীহ্ বুখারী-২/হা/৫৫১ আবছা আঁধারে যখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) ও সাহাবায়ে কেরাম ফজরের সলাত সম্পন্ন করতেন তখন বিলম্বে অর্থাৎ ভোরের আলো প্রকাশিত হবার পর তা আদায় করা মুস্তাহাব বলার কোন এখতিয়ার থাকে কি?
৪০। প্রচলিত ভুলঃ কোন ব্যক্তি ইক্বামাতের সময় মাসজিদে প্রবেশ করলে তার জন্য দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা মাকরুহ। বসে যাবে। পরে মুয়াযযিনের হাইয়্যা আ’লাল ফালাহ বলার সময় দাঁড়াবে। (মুযমারাত) (ফাতওয়ায়ে আলমগীরী-১৫৭)
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ ইক্বামাতের সময় এবং এর পরে কাতার সোজা করা নামে সহীহ বুখারীতে একটি অনুচ্ছেদ রচিত হয়েছে। (অনুচ্ছেদ নং-৪৬৩, বুখারী ২য় খন্ড-৯৫ ই.ফা.বা) ঐ অধ্যায়ে ৬৮৪ নং হাদীসে বর্ণিত আছে- ইক্বামাত হচ্ছে এমন সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) আমাদের দিকে মুখ করে তাকালেন এবং বললেনঃ ‘‘তোমাদের কাতারগুলো সোজা করে নাও আর মিলে দাঁড়াও কেননা আমি আমার পেছনের দিক থকেও তোমাদের দেখতে পাই। তাহলে ইক্বামাত বলার পূর্বেই তো কাতার সোজা করা নিয়ম আর ইক্বামাতের পরও ইমাম সাহেব দেখবেন যে কাতার সোজা হল কিনা।
৪১। প্রচলিত ভুলঃ কাদ্কামাতিস সলাহ্ বলার সামান্য পূর্বে ইমাম তাকবীর বলবে (ফাতওয়ায়ে আলমগীরী-১৫৭)
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রোগের কারণে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) তিনদিন পর্যন্ত ঘরের বাইরে আসেন নি। এসময় একবার সলাতের ইক্বামাত দেওয়া হলে। আবু বক্বর (রাঃ) ইমামতির জন্য অগ্রসর হচ্ছিলেন। এমন সময় নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) ঘরের পর্দা ধরে উঠলেন।....তিনি হাতের ইশারায় আবু বক্বর (রাঃ)-কে ইমামতির জন্য ইশারা করলেন ও পর্দা ফেলে দিলেন। (সহীহ বুখারী-২/হা/৬৪৭) এই হাদীসে ইক্বামাত শেষ হবার পরই আবু বক্বর (রাঃ) ইমামতির জন্য অগ্রসর হবার কথা বর্ণিত। উপরন্তু ইমাম মুক্তাদী সকলকেতো ইক্বামাতেরও জবাব দিতে হয়। তাহলে কাদ্কামাতিস সলাহ্ বলার সাথে সাথে ইমাম তাকবীর বললে বাকী শব্দগুলোর জবাব তিনি কখন দিবেন? মুক্তাদীরা তাকবীর শেষ হবার পর ইমামকে অনুসরণ করে সলাত শরু করবে না মুয়ায্যিনের ইক্বামাতের অবশিষ্ট কালিমাগুলো শুনে জবাব দিয়ে তারপর সলাত শুরু করবে? এর মধ্যে তো ইমামের সানা শেষ হয়ে কিরআত শুরু হয়ে যাবে। তাহলে মুক্তাদিরা কখন সানা পড়বে? এসব হাদীস বিরোধী ফাতওয়ার কি কোন প্রয়োজন ছিল? না এসব ফাতওয়া প্রদান করে হাদীসকে উপেক্ষা করে সলাতে বিদ’আত ঢুকানো হয়েছে?
৪২। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের দেশে পুরুষ ও মহিলাদের সলাতের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়। অথচ এটা সহীহ্ হাদীস পরিপন্থী বিদ‘আত।
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতিঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) পুরুষ ও মহিলালে সলাতে কোন পার্থক্য বর্ণনা করতেন না। বরং (মহিলা সাহাবী) উম্মু দারদা (রাঃ) বলেনঃ‘‘ আমরা পুরুষদের মতই সলাতে বসতাম (অর্থাৎ পুরুষের মত সলাত আদায় করতেন) অথচ তিনি ছিলেন ফকীহা বা দ্বীন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞানী। কিন্তু লোকেরা পুরুষ-মহিলার সলাতে পার্থক্য বর্ণনা করে থাকে (সহীহ্ বুখারী-১/৩৫৫) আল্লামা আইনী হানাফী, উম্মু দারদা (রাঃ) এর উক্ত রেওয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন, ‘মহিলাদের জন্যও পুরুষদের ন্যায় বসা মুস্তাহাব। আর তা হল, ডান পা খাড়া রাখবে এবং বাম পা বিছিয়ে রাখবে। এটাই ইমাম নাসাঈ, ইমাম আবু হানীফা এবং ইমাম মালিক রাহিমাল্লাহুগণের উক্তি। (আইনী ৩/১৬৫)
৪৩। প্রচলিত ভুলঃ মাহিলাদের জন্য জাম’আতে শরীক হওয়া মাকরূহ। (ফাতওয়ায়ে আলমগীরী- ২২৭)
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) এর যুগে নারীগণ মাসজিদে জাম’আতে উপস্থিত হয়ে সলাত আদায় করতেন-আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) ফজরের সলাত আদায় করতেন আর তার সঙ্গে অনেক মুমিনা মহিলা চাদর দিয়ে গা ঢেকে শরীক হত। অতঃপর তারা নিজ নিজ ঘরে ফিরে যেত আর তাদেরকে কেউ চিনতে পারত না। (সহীহ্ বুখারী-১/হা/৮১৫-৮২৪ ই.ফা.বা, তিরমিযী-১/৫৩২ পৃঃ) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) মহিলাদের জামাআতে শরীক হওয়ার অনুমতি দিবার পর কেউ যদি তা রহিত করে সেটা কি ওহীর বিরুদ্ধাচারণ করা হলো না? ফিতনার যুগের অজুহাত পেশ করে মাসজিদে যেতে নিষেধের ফাতওয়া দেওয়া হয়, আর হাট-বাজার, মার্কেট, ক্ষেত-খামার, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কোর্ট-কাচারি, অফিস-আদালত এমনকি মন্ত্রী হয়ে বেপর্দায় বিদেশে ঘুরে বেড়ালেও আপত্তি থাকেনা। এমনটি তো আশ্চর্য ব্যাপার। অথচ মাসজিদে পৃথকভাবে পর্দার সাথে সর্বাঙ্গ ঢেকে আল্লাহর ইবাদতে শামিল হওয়া তো সব থেকে নিরাপদ। ফিতনা-ফাসাদ মুক্ত মাসজিদ তো দুনিয়ার সব থেকে নিরাপদ স্থান। সেখানে আল্লাহর বান্দীরা প্রবেশ করলে কেন ফিতনার কারণ বা আশংকা হবে? অথচ যেখানে শয়তানের পদচারণা সেই মার্কেট আর বাজারে নারীর আহবান উচ্চ কন্ঠে। এখানেই তো ফাতওয়া জোরদার হওয়া উচিৎ ছিল। আল্লাহর বিধান ও রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতির উপর হস্তক্ষেপ আদৌ কল্যাণকর নয় বরং বিপজ্জনক। আমার বুঝে আসে না, নারীরা তাদের অধিকার আদায়ে যখন সোচ্চার তখন এই মৌলিক অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে নিশ্চুপ কেন?
৪৪। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের দেশে অধিকাংশ মুসল্লীকে দেখা যায় মাসজিদে গিয়ে প্রথমে বসেন অতঃপর দাঁড়িয়ে সুন্নাত বা নফল সলাত আদায় করেন। অথচ এটা সহীহ্ হাদীসের পরিপন্থী এবং বসাই যাবেনা দু’রাক’আত আদায় ব্যতীত।
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘‘তোমাদের মধ্যে কেউ যখন মাসজিদে প্রবেশ করে যতক্ষণ পর্যন্ত দু’রাক’আত সলাত না পড়ে ততক্ষণ পর্যন্ত যেন না বসে। অন্য বর্ণনায় তিনি বলেনঃ ‘‘যখন তোমাদের মধ্যে কেউ মাসজিদে প্রবেশ করে, সে যেন বসার পূর্বে দু’রাক‘আত সলাত পড়ে (সহীহ্ বুখারী-১/৬৩, ১৫৬ পৃঃ)। লাল বাতি জ্বলা অবস্থায় সলাত পড়া নিষেধ-তাহলে একজন লোক মাসজিদে প্রবেশ করে যদি দেখে লাল বাতি জ্বলছে তাবে সে উপরে বর্ণিত সহীহ্ হাদীসের নির্দেশ অনুযায়ী দু’রাক‘আত সলাত পড়বে না লাল বাতির নির্দেশ মানবে? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) এর নির্দেশ পালন করা কর্তব্য না ব্যক্তি বিশেষের বা ইমাম সাহেবের বিদ’আতী বা নাজায়েয নির্দেশ মানা কর্তব্য? সাধারণত দেখা যাচ্ছে সাধারণ লোকেরা দু’রাক‘আত সলাত না পড়েই বসে পড়েন। এখন ঐ ব্যক্তি সলাত না পড়ে রাসূলের নির্দেশিত সুন্নাতের খেলাফ করার জন্য কে দায়ী হবে? একথা কি আমাদের শ্রদ্ধেয় ইমাম সাহেবরা একবারও চিন্তা করেছেন? ফলাফল কি হল? একটা সুন্নাত বর্জিত হল আর একটা বিদ’আত স্থান করে নিল। সমাজে এভাবেই তো বিদ’আতের অনুপ্রবেশ ঘটে।
৪৫। প্রচলিত ভুলঃ জুমু‘আর খুতবা পাঠ আরম্ভ হলে কেবল ঐ দিনকার ফজরের সলাতের কাজা ব্যতীত অন্য কোন সলাত.... জায়েয নেই। (সহীহ্ মোকছুদুল মোমেনীন বা বেহেশতের কুঞ্জি-১৯২ পৃঃ মাসলাহ-৫) অনুরূপভাবে আমাদের দেশে জুমু‘আর দিনে মাসজিদে প্রবেশ করে প্রথমে বসে তারপর দাঁড়িয়ে সুন্নাত পড়ে’ এটা সুন্নাহ বিরোধী। বরং মাসজিদে প্রবেশ করে বসার পূর্বেই কমপক্ষে দু’রাক‘আত সলাত পড়তে হবে। খুতবার সময় মাসজিদে প্রবেশ করলেও দু’রাক‘আত পড়ে বসতে হবে।
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ প্রমাণ হলোঃ জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ‘‘ কোন এক জুমু‘আর দিন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) লোকদের সামনে খুতবা দিচ্ছিলেন এমন সময় এক ব্যক্তি আগমন করল। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, ‘‘হে অমুক তুমি কি সলাত আদায় করেছ? সে বলল, না। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘‘উঠ, সলাত আদায় কর।’’ অপর এক বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) খুতবা দেওয়া অবস্থায় বলেনঃ ‘‘যখন তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি ইমামের খুতবা দেওয়া অবস্থায় মাসজিদে আগমন করে সে যেন সংক্ষিপ্ত করে দু’রাক‘আত সলাত পড়ে নেয়। (সহীহুল বুখারী-১/১২৭, ১৫৬ পৃঃ, সহীহ মুসলিম- ২৮৭ পৃঃ, আবু দাউদ-১৫৯ পৃঃ, তিরমিযী-৬৭ পৃঃ নাসাঈ-২০৭ পৃঃ, ইবনু মাজাহ-৭৯ পৃঃ, মিশকাত-১২৩ পৃঃ)
৪৬। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের দেশের অধিকাংশ মাসজিদে ইমামদের দেখা যায় খুব দ্রুত ক্বিরআত পড়ে এবং রমযান মাসে তারাবীর সলাতের হাফিয সাহেবরাতো এত দ্রুত ক্বিরআত পড়ে যে, এক শ্বাসে সূরা ফাতিহা, অতঃপর মাদ্দ্ কিংবা ওয়াকফ্ ছাড়া তিলাওয়াত হয় যা কুরআন-সুন্নাহ্ পরিপন্থী।
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ আনাস (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করা হল যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) এর ক্বিরআত কেমন ছিল? তিনি উত্তরে বললেনঃ ‘‘ তার পড়ার দীর্ঘস্বর বিশিষ্ট ছিল। তিনি তিলাওয়াত করলেন, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম এবং ‘বিসমিল্লাহ’ ‘আর রাহমান’ ও ‘আর রাহীম’ প্রত্যেকটি দীর্ঘস্বর অর্থাৎ মাদ্দের সাথে পাঠ করতেন। (সহীহুল বুখারী-৪/হা/৪৬৭৩)। উম্মে সালমা (রাঃ) বলেন, ‘‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) ক্বির‘আতসময় প্রত্যেক আয়াত পৃথক পৃথক করে পড়তেন। ‘আলহামদুলিল্লাহি রাবিবল আলামীন’ বলে ওয়াক্ফ করতেন। (সুনাসে দার কুতনী- ১/হা/১১৭৮) উল্লেখ্য যে, উল্লিখিত পদ্ধতিতে তিলাওয়াত না করা খোদ আল-কুরআনেরও খেলাফ। আল্লাহ‘তাআলা বলেনঃ ‘‘ আর সলাতে কুরআন খুব স্পষ্ট করে ধীরে ধীরে পাঠ কর। (আল-মুয়াম্মিলঃ ৪)
৪৭। প্রচলিত ভুলঃ দুই ওয়াক্তের সলাত এক ওয়াক্তের মধ্যে একত্রে আদায় কোন ওজরের কারণেও করা যাবে না। সফরেও না, বাড়ীতে থাকা অবস্থায়ও না। তবে আরাফা ও মুজদালিফায় আদায় করা যাবে। (মুহীত) (ফাতওয়ায়ে আলমগীরী-১৪৬ পৃঃ)
* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ সফর অবস্থায় দু’ওয়াক্তের সলাত একত্রে আদায় ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ‘‘ সফরে দ্রুত চলার সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) যুহর ও আসরের সলাত একত্রে আদায় করতেন আবার মাগরিব ঈশা একত্রে আদায় করতেন। (সহীহ বুখারী-১১৩৮, ই.ফা.বা- ১০৪২, সহীহ মুসলিম ই.ফা.বা- ৩/হা/ ১৪৯১ হতে ১৫২০ পর্যন্ত। তিরমিযী-ই.সে.হা/ ৫১৯,৫২০)
৪৮। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের সমাজে প্রচলিত জানাযায় সূরা ফাতিহা পড়া হয় না এবং প্রত্যেক তাকবীর সমূহে হাত উঠানো হয় না; দলীল হিসাবে বলা হয়, ‘জানাযা পড়ার নিয়মঃ জানাযার সলাত এইভাবে পড়িবে যে, প্রথম তাকবীর বলিয়া আল্লাহ্র প্রশংসা ও গুণাগুণ জ্ঞাপন করিবে, অতঃপর আবার তাকবীর বলিয়া নাবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) এর উপর দরুদ পাঠ করিবে, তারপর তৃতীয় তাকবীরে পাঠ করিবে নিজের জন্য, মৃতের জন্য ও সমস্ত মুসলমানের জন্য দু’আ করিবে, সবশেষে চতুর্থ তাকবীর বলিয়া সালাম ফিরাইবে। প্রথম তাকবীর ছাড়া অন্য কোন কাবীরের সময় হাত উঠাইবে না।’’ (আল হিদায়া ই.ফা.বা- ১/১৭৪ পৃঃ, আল মুখতাসারুল কুদুরী-মাদ্রাসার ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর পাঠ্য-১০৪ পৃঃ) উল্লিখিত গ্রন্থদ্বয় আমাদের দেশের কওমী ও আলিয়া মাদ্রাসার ছেলেদের পড়ানো হয়, যার মধ্যে হাদীস বিরোধী অগণিত ফাতওয়া বিদ্যমান। তাইতো আমাদের এই সিলেবাসধারী মৌলবীদের সূরা ফাতিহার কথা জিজ্ঞেস করলে তারা বলে এটা তো (নামায) সলাত নয় ‘দু’আ’ কারণ এতে রুকূ, সাজদাহ্ নেই। ‘‘জানাযার সলাতে কুরআন শরীফের কোন সূরা ক্বিরআত পাঠ করবে না। সূরা ফাতিহা দু‘ আর নিয়্যাতে পাঠ করাতে কোন দোষ নাই। কিন্তু ক্বিরআতের নিয়্যাতে পাঠ করা জায়েয নয়। কেননা এটা ক্বিরআতের ক্ষেত্র নয়। বরং দু‘আর ক্ষেত্র।’’ (মুহীতঃ ফাতওয়ায়ে আলমগীরী-১/৩৯৮ পৃঃ) অথচ স্বয়ং আল্লাহতা‘আলা যে কুরআনে জানাযাকে সলাত বলেছেন, সেটা দেখার সুযোগটুকুও হয়না তাদের। কারণ তাদের সঠিকভাবে কুরআনের তালিম দেওয়া হয়না। আর কেনইবা দিবে কারণ হিদায়া গ্রন্থকে তারা কুরআনের মত মনে করে (নাউযুবিল্লাহ)। এ ব্যাপারে বিস্তারিত দেখুন এ দীন লেখকের লেখা ‘মাযহাবের স্বরূপ’ বইটি
* রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ মহান আল্লাহ বলেনঃ ‘‘(ভবিষ্যতে) উহাদের (মুশরিকদের) মধ্যে কাহারো মৃত্যু হইলে তুমি কখনও উহার জন্য (জানাযার) সলাত পড়িবে না এবং উহার কবর পার্শ্বে দাঁড়াইবে না। উহারা তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করিয়াছে এবং পাপাচারী অবস্থায় উহাদের মৃত্যু হইয়াছে। (আত্-তাওবা, ৯ঃ৮৪)
আল্লাহ বলেন- জানাযা সলাত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বললেন- জানাযা সলাত, অথচ আমাদের তথাকথিত সিলেবাসধারী মৌলবীরা নিজেদের লালিত ভ্রান্ত আদর্শ টিকিয়ে রাখার জন্য বলেন- এটা সলাত নয় এটা তো দু‘আ। জানাযার সলাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা আবশ্যক। কেননা, সূরা ফাতিহা হলো উত্তম দু‘আ। জানাযার সলাতে ফাতিহা পাঠ করা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত, ‘‘তালহা বিন আবদুল্লাহ বিন আউফ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ‘‘আমি আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) এর পিছনে জানাযার সলাত আদায় করেছি। তাতে তিনি সূরা ফাতিহা পাঠ করলেন এবং জানাযা শেষে বললেন, যেন লোকেরা জেনে নেয় যে, জানাযায় সূরা ফাতিহা পাঠ করা সুন্নাত। (সহীহ বুখারী-১/১৭৮ পৃঃ, আবু দাউদ-২/৪৫৫ পৃঃ, নাসাঈ-২৮১ পৃঃ, ইবনু মাহ-১০৮, ১০৯ পৃঃ, যা‘আদুল মা‘আদ-১/৩১২ পৃঃ)
জানাযার তাকবীর সমূহে হাত উত্তোলন
আবদুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) যখন জানাযার সলাত পড়তেন, তখন প্রত্যেক তাকবীরে হাত উত্তোলন করতেন। (দারাকুতনী তায়ালীকসহ-১/১৯২ পৃঃ, বুখারী কিতাবুল রাফউল ইয়াদাইন-১৫৪,১৫৭ পৃঃ)।
৪৯। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের সমাজে মহিলাদের জানাযায় শরীক করা হয়না, অথচ এটা সুন্নাহ বিরোধী
* রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ আব্বাদ ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, সাদ ইবনু আবু ওয়াক্কাস (রাঃ) এর ইন্তিকালের পর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) এর স্ত্রীগণরা তাঁর জানাযা মাসজিদে নিয়ে আসার জন্য সংবাদ পাঠালেন, যাতে তাঁরা তাঁর জানাযার সলাত আদায় করতে পারেন। তাঁরা তাঁর জানাযার সলাত আদায় করলেন। (সহীহ্ মুমলিম -১/৩১২, ৩১৩ পৃঃ)
৫০। প্রচলিত ভুলঃ আমাদের দেশে শুধু ফজর এবং আসর সলাতে ইমামগণ সালাম ফিরিয়ে মুক্তাদিদের দিকে ঘুরে বসেন। (মারাকুলফালাহর, উদ্বৃতিতে আহকামে যিন্দেগী-১৪৭ পৃঃ) এটা সুন্নাহ পরিপন্থী। বরং প্রত্যেক সলাতেই ঘুরে বসতে হবে। হাদীসে শুধু ফজর এবং আসরকে নির্দিষ্ট করা হয়নি।
* রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ সামুরা বিন জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ‘‘ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) যখন কোন সলাত শেষ করতেন তখন আমাদের দিকে মুখ করে বসতেন। (সহীহ্ বুখারী-১১৭ পৃঃ, সহীহ মুসলিম-২৪৭ পৃঃ, মিশকাত-মাদ্রাসার পাঠ্য-২/হা/ ৮৮৩-৮৮৫)

Popular Posts


Search




আমাদের ফেইসবুক গ্রুপ লিংকঃ

রাদ্দে হানাফিয়্যাত

Iklan Atas Artikel

Iklan Tengah Artikel 1

Iklan Tengah Artikel 2

Iklan Bawah Artikel