ইমাম আবু হানিফা (রাহি) হাদীসশাস্ত্রে যঈফ (দুর্বল) ছিলেন

হাদিসশাস্ত্রে ঈমাম আবু হানিফা (রাহি) দূর্বল (যঈফ) ছিলেন


"ইমাম আবু হানিফা (রাহি)"-কে "যঈফ" রাবী বলেছেন "ইমাম দারা-কুতনী (রাহি)"

☞ দেখুনঃ সুনান আদ-দারাকুতনী (ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ছাপা ১ম খন্ড পৃষ্ঠা নং ৪৬৭)
অধ্যায়ঃ ৩. নামায (كتاب الصلاة)
হাদিস নম্বরঃ ১২০৬

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُبَشِّرٍ ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ الْوَاسِطِيُّ ، ثَنَا إِسْحَاقُ الْأَزْرَقُ ، عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ ، عَنْ جَابِرٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - : " مَنْ كَانَ لَهُ إِمَامٌ ، فَقِرَاءَةُ الْإِمَامِ لَهُ قِرَاءَةٌ "

. لَمْ يُسْنِدْهُ عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ غَيْرُ أَبِي حَنِيفَةَ ، وَالْحَسَنُ بْنُ عُمَارَةَ ، وَهُمَا ضَعِيفَانِ

১২০৬(১)। আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুবাশশির (রহঃ)... জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সা.) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইমামের সাথে নামায পড়ে ইমামের কিরাআতই তার কিরাআত।

[ইমাম দারা-কুতনী (রাহি) বলেনঃ] মূসা ইবনে আবু আয়েশা (রহঃ) থেকে আবু হানীফা (রহঃ) এবং আল-হুসাইন ইবনে উমারা (রহঃ) ব্যতীত অন্য কেউ মারফুরূপে বর্ণনা করেননি। তারা উভয়ে [আবু হানীফা (রহঃ) এবং আল-হুসাইন ইবনে উমারা (রহঃ)] হাদীসশাস্ত্রে দুর্বল (যঈফ)।

ফটো দেখুনঃ





▬▬▬▬ ◈◉◈ ▬▬▬▬


এছাড়া দেখুন, ঈমাম বুখারী (রাহি) উনার সম্পর্কে কি বলেছেন।

☞ তারীখুল কাবীর লিল বুখারী (খন্ড ৮, পৃষ্ঠা নং ৮১, রাবী নং ২২৫৩)

٢٢٥٣ - نعمان بْن ثابت أَبُو حنيفة الكوفِي مولى لِبَنِي تيم اللَّه بْن ثعلبة روى عنه عباد بْن العوام وابْن المبارك وهشيم ووكيع ومُسْلِم بْن خَالِد وأَبُو مُعَاوِيَة والمقري كَانَ مرجئا سكتوا (عنه و - ١) عن رأيه وعَنْ حديثه، قَالَ أَبُو نعيم مات أَبُو حنيفة سنة خمسين ومائة (٢) .

▬▬▬▬ ◈◉◈ ▬▬▬▬

☞ আয যুয়াফা আস সাগীর লিল বুখারী (খন্ড ১, পৃষ্ঠা নং ১৩২, রাবী নং ৩৮৮)

٣٨٨- النعمان بن ثابت أبو حنيفة الكوفي، مات سنة خمسين ومائة، حدثنا نعيم بن حماد, ثنا يحيى بن سعيد، ومعاذ بن معاذ, سمعنا الثوري يقول: استتيب أبو حنيفة من الكفر مرتين. حدثنا نعيم ثنا الفزاري, قال: كنت عند الثوري، فنُعي أبو حنيفة، فقال: الحمد لله، وسجد، قال: كان ينقض الإسلام عروة عروة، وقال يعني الثوري: ما ولد في الإسلام مولود أشأم منه.
حدثنا صاحب لنا عن حمدويه قال: قلت لمحمد بن مسلمة: ما لرأي النعمان دخل البلدان كلها إلا المدينة؟ قال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لا يدخلها الدجال ولا الطاعون، وهو دجال من الدجاجلة".

▬▬▬▬ ◈◉◈ ▬▬▬▬

হাদিসশাস্ত্রে ঈমাম আবু হানিফা (রাহি) কে দূর্বল (যঈফ) বলেছেন ঈমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রাহি)

ইমাম আহমদ ইবন হাম্বাল রাহি. (১৬৪-২৪১ হি)

ইমাম আহমদ (রাহ) নিজেও ‘কিয়াসপন্থী’ হওয়ার কারণে ইমাম আবূ হানীফার উপরে বিক্ষুদ্ধ ছিলেন। তাঁর পুত্র বলেন: আমার পিতাকে প্রশ্ন করা হয়, এক স্থানে কিয়াসপন্থীরা রয়েছেন এবং কয়েকজন হাদীসপন্থী রয়েছেন যারা হাদীসের সহীহ-যয়ীফ বুঝেন না, সেখানে যদি কেউ দীন সম্পর্কে প্রশ্ন করতে চায় তবে কাকে প্রশ্ন করবে? তিনি বলেন:

يسأل أصحاب الحديث ولا يسأل اصحاب الرأي الضعيف الحديث خير من رأي أبي حنيفة... حديث أبي حنيفة ضعيف ورأيه ضعيف

‘‘মুহাদ্দিসদেরকে প্রশ্ন করবে, কিন্তু কিয়াসপন্থীদেরকে (ফকীহদেরকে) প্রশ্ন করবে না; আবূ হানীফার কিয়াসের চেয়ে যয়ীফ হাদীস উত্তম .... আবূ হানীফার হাদীস যয়ীফ এবং তাঁর রায় (ফিকহী মত)-ও যয়ীফ।’’[আব্দুল্লাহ ইবন আহমদ, আস-সুন্নাহ ১/১৮০-১৮১; খতীব বাগদাদী, তারীখ বাগদাদ ১৩/৪৪৮।]

ইমাম আহমদ অন্যত্র বলেন:

وكنا نلعن أصحاب الرأي ويلعوننا حتى جاء الشافعي، فخرج بيننا.

‘‘আমরা ‘রায়’-পন্থী বা কিয়াসপন্থীদেরকে (ফকীহদেরকে) অভিশাপ করতাম এবং তাঁরাও আমাদেরকে অভিশাপ করতেন। এরপর শাফিয়ী আমাদের কাছে আসলেন, তখন তিনি আমাদের মধ্যে যোগসূত্র গড়লেন।’’[কাযী ইয়ায, তারতীবুল মাদারিক ১/১৩৯]

অর্থাৎ হাদীস ও ফিকহের মধ্যে তথাকথিত যে শত্রুতা ছিল ইমাম আহমদ তাতে প্রভাবিত ছিলেন। ইমাম শাফিয়ীর সাথে সাক্ষাত ও শিক্ষা গ্রহণের পর তাঁর এ ভিত্তিহীন বিদ্বেষ দূরীভূত হয়। উল্লেখ্য যে, ইমাম শাফিয়ীও আহল রায় হিসেবে মুহাদ্দিসদের বিরাগভাজন হয়েছেন। ইবন মায়ীনের অভিযোগ আমরা দেখেছি। বুখারী ও মুসলিম তাঁর হাদীস প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেন নি। ফিকহী ব্যস্ততার কারণে হাদীস বিষয়ে তাঁর অপেক্ষাকৃত কম অভিজ্ঞতার বিষয় ব্যক্ত করে তিনি ইমাম আহমদকে বলেন:

أنتم أعلم بالأخبار الصحاح منا فإذا كان خبر صحيح فأعلمني حتى أذهب إليه

‘‘সহীহ হাদীসের বিষয়ে আপনারা-মুহাদ্দিসগণ আমাদের-ফকীহগণের চেয়ে অধিক অভিজ্ঞ। যদি কোনো সহীহ হাদীস থাকে তবে আমাকে জানান, যেন আমি তা গ্রহণ করতে পারি।[ইবন আসাকির, তারীখ দিমাশক ৫১/৩৮৫; যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা ১০/৩৩। ]



▬▬▬▬ ◈◉◈ ▬▬▬▬

Popular Posts


Search




আমাদের ফেইসবুক গ্রুপ লিংকঃ

রাদ্দে হানাফিয়্যাত

Iklan Atas Artikel

Iklan Tengah Artikel 1

Iklan Tengah Artikel 2

Iklan Bawah Artikel